|
|
রংপুর, ৯ জানুয়ারি: রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল জলিল মিয়ার অপসারণের দাবীতে আন্দোলনে একাট্রা হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বুধবার তিন ঘণ্টা অনশন শেষে ভিসি কার্যালয়ের সামনে তাঁর কুশপত্তলিকাহ দাহ করা হয়। এছাড়াও আন্দোলনকারী বাংলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থী বহিরাগতদের হামলায় আহত হয়েছে।
ভিসির প্রফেসর ড. আব্দুল জলিল মিয়ার অপসারণের এক দফা দাবিতে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়েছে। দুর্বার এ আন্দোলন পঞ্চম দিনের মত অব্যাহত ছিল। গেল পাঁচ দিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে
কোন ক্লাশ ও পরীক্ষা হচ্ছে না। অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থীরা সেশন জটে পড়লেও ভিসি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়ে হাতে হাত রেখে শপথ নিয়েছে। তারা সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত অনশন পালন করেছে। ১২টা এক মিনিটে ড. মতিউর রহমান, ড. তুহিন ওয়াদুদ এবং ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জয়নব বিনতে এবং রিমি জুস পান করে অনশন ভঙ্গ করেন। পরে এক সাথে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনশন ভঙ্গ করে। অনশন শেষে বেলা সাড়ে বারটায় ভিসি কার্যালয়ের সামনে তার কুশপত্তাহলিকা দাহ করা হয়। কুশপুত্তলিকায় শিক্ষার্থীরা থুথু ও জুতা নিক্ষেপ করেছে। এছাড়াও কুশপুত্তলিকার গায়ে লেখা ছিল- আমার হাতে থানা পুলিশ,আমি দূর্ণীতিতে চ্যাম্পিয়ন, জলিল মিয়া সার্টিফিকেট স্টোর। অসব বিভিন্ন বাক্য লিখেছে।
পরে দুর্নীতি বিরোধী এক মঞ্চে বক্তব্য রাখেন, ড. আর এম হাফিজুর রহমান সেলিম, ড. মতিউর রহমান. ড. তুহিন ওয়াদুন, আপেল মাহমুদ শিক্ষার্থী সালেহীন, তানজিমা হক প্রমুখ। ভিসি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা অন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা ছাড়াও একে অপরের হাতে হাত ধরে শপথ নেন।
পরে ওই মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনশন, বেলা সাড়ে ১২টায় মুখে কালো কাপড় পড়ে মৌন মিছিল এবং দেড়টায় সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে। শনিবারের মধ্যে ভিসি পদত্যাগ না করলে রবিবার থেকে আমরণ অনশন পালন করা হবে।
এদিকে কর্মসুচী শেষে বেলা একটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে যায়। শিক্ষার্থীরা যে যারমত চলে যাচ্ছিল। এর মধ্যে বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোশারফ হোসেন এবং খাদিজা নগরীর পার্ক মোড়ে আসলে বহিরাগত চারজন তাদের বেধরক মারপিট করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে এক হোটেলে নিরাপদে রাখে। পরে শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ, ওমর ফাকুর এবং পুলিশের এসআই শফিকসহ শিক্ষার্থীরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় আবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে। পরে বেলা দেড়টার দিকে রংপুর পুলিশের এএসপি জাকির হোসেন অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। এর একটু পরেই শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
Collected Here


0 comments:
Post a Comment